দৈত্যের সাথে চালাকি

ছোট গল্প

কানাইয়ের খুব ইচ্ছা সে বড়লোক হবে। এজন্য সারাদিন কোনো কাজ করে না। খালি সেই চিন্তাই করে। আর কোনো সাধুবাবা কে দেখলেই সেখানে উপস্থিত হয়। কানাই মনে করে সাধারাই পারে তাকে বড়লোক বানাতে।

একবার এক সাধুবাবা গ্রামে এলো। তখন লোকজন সব বাড়ি গেছে৷ কানাই সেই সময় সাধুবাবার সাছে উপস্থিত। সাধুবাবা বলল,” কিরে বৎস! হঠাৎ আমার কাছে কি মনে করে?

কানাই বলল,” আমি বড়লোক হতে চাই সাধুবাবা। আমাকে বড়লোক হবার উপায় বলে দিন।”

সাধুবাবা বলল, ” আমার কি আর সে সামর্থ্য আছে রে পাগলা! আমি নিজেই তো ভিখারি। লোকে যা দেয় তাই নিয়েই আছি। তোকে কিভাবে বড়লোক করে দেব?”

কানাই তবুও অনেক ভাবে বলল। শেষে সাধুবাবা বলল, ” আচ্ছা আমি একটা মন্ত্র বলে দিচ্ছি। এটা নিয়ে ঐ সামনের জঙ্গলের বটগাছটার নিচে বসবি। আর তখনি একটা দৈত্য আসবে। তুই ওকে যা আদেশ করবি, তাই ও শুনবে। দৈত্যকে দেখে ভয় পেলে কিন্তু চলবে না। “

কানাই সাধুবাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জঙ্গলের ভিতর বটগাছের নিচে বসলো। তারপর মন্ত্রটা বলল। আর তখনি একটা বিরাট দৈত্য এসে হাজির।

কানাই ভয় পেয়ে গেল। সে ভাবে নি এতো তাড়াতাড়ি দৈত্যটা সত্যি সত্যি এসে হাজির হবে।

দৈত্যটা বলে উঠলো,” কে আমাকে ডাকলো। এবার আমার কাজ চাই।”

কানাই নিজেকে শান্ত করে বলল,” আরে সত্যি সত্যিই তুমি এভাবে চলে আসবে তা কি আমি জানতাম! তাহলে তো তোমাকে ডাকতামই না।”

দৈত্য বলল,” আমাকে ডেকেই যেহেতু ফেলেছেন, এখন তাহলে আদেশ করুন আপনার কি কি কাজ করতে হবে। আমি আবার কাজ ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারি না। আর একটা কথা। আমাকে যদি কাজ দিতে না পারেন তাহলে আপনার ঘাড় মটকে দেব কিন্তু। “

কানাই মনে মনে ভাবলো, ” সবাই কাজ না থাকলে বাঁচে। আর এই দৈত্যটা কি বোকা! সব সময় বলে তার কাজ করবে।”

দৈত্য বলল, ” কি এতো ভাবছেন? আমি শুধু শুধুই বসে থাকবো নাকি? কাজের আদেশ দিন।”

কানাই বলল, ” আরে এতো তাড়াহুড়ো করো কেন? কাজ দিচ্ছি তো। এখন আমার জন্য সুস্বাদু সব খাবার নিয়ে এসো তো৷ আমি অনেক্ক্ষণ খাবার খাই না। “

দৈত্য বলল, ” এক্ষুনি নিয়ে আসছি৷ ” এই বলে সে হাওয়া হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরলো নানারকমের ফলমূল, মিষ্টি দই ইত্যাদি সুস্বাদু সব খাবার নিয়ে। খাবার দেখে তো কানাইয়ের জিহ্বায় জল এসে গেল। সে খাবার খেতে শুরু করলো। আহা, অনেকদিন পর এতো ভালো ভালো খাবার খাচ্ছে সে।

দৈত্য বলল, ” আপনি তো খাবেন। আমি বসে বসে কি করব? আমার কাজ কোথায়? “

কানাই বলল, ” আমি যতক্ষণ খাই, ততক্ষণে তুমি আমাকে বাতাস কর।”

দৈত্য বলল, ” ঠিক আছে। ” এই বলে সে একটা পাখা বের করে কানাইকে বাতাস করতে থাকলো। কানাই আরামে খেতে লাগলো সব খাবার।

খাওয়া শেষ হলে কানাই বলল, ” ঐ যে পাহাড় দেখছো! ওখানে একটা নগর তৈরি কর। ঐ নগরের রাজা হবো আমি। “

দৈত্য তখন পাহাড় ভেঙে সেখানে একটা নগর তৈরি করলো। কানাই দেখলো রূপকথার ছবির মতো তার নগর। দৈত্য বলল, ” এবার কি করব?”

কানাই ভাবলো আর কি কাজ দেয়া যায়! সে তখন দৈত্যকে বলল,” এতো বড় একটা নগর তৈরি করলে। আর আমি যেখানে থাকব, সে রাজপ্রাসাদ কই? তোমার মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে! “

দৈত্য বলল, ” আসলেই তো। আপনার রাজপ্রাসাদ ই তো এখনো বানানো হয় নাই। আমি এক্ষুনি আপনার রাজপ্রাসাদ বানিয়ে দিচ্ছি। ” এই বলে দৈত্যটা রাজপ্রাসাদ বানাতে গেল। রাজপ্রাসাদ তৈরি করা শেষে কানাইকে বলল,” এবার কি করব?”

কানাই দেখল একে নিয়ে তো মহা মুশকিলে পড়া গেল। সে বলল,” আমাকে রাজপ্রাসাদের ভেতরে নিয়ে চলো। “

দৈত্য কানাইকে রাজপ্রাসাদের ভেতরে নিয়ে এলো। কানাই এতো সুন্দর রাজপ্রাসাদ আগে কখনো দেখে নি। কানাই বলল, ” এখন আমি ঘুমাবো। তুমি ততক্ষণে আমাকে বাতাস করো। “

কানাই ঘুমের ভেতর তার বউ, ছেলের স্বপ্ন দেখলো। আহারে বেচারা। কানাই এখানে আরামে জীবনযাপন করছে। আর ঐদিকে কানাইয়ের ছেলে বউ কুঁড়েঘরে রয়েছে৷ কানাইয়ের ঘুম ভেঙে গেল। সে দৈত্যকে বলল,” ওখানে যাও।”

দৈত্য বলল, ” কোথায় যাব?”

কানাই বলল,” পাশের ঐ গ্রামে। সেখানে আমার ছেলে বউ একটা কুঁড়েঘরে থাকে। ওখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসবে। আর শোনো এই চেহারায় তাদের সামনে যেও না। তারা তোমাকে দেখে ভয় পাবে। “

দৈত্য বলল, ” সে আপনাকে ভাবতে হবে না। আমি আমার রূপ বদল করছি। এই বলে সে দারোয়ানের রূপ ধরলো। সেখান থেকে চলে গেল গ্রামে। গ্রামে গিয়ে কানাইয়ের ছেলে বউ কে নিয়ে আসলো।

তারপর দৈত্য বলল, ” এবার কি কাজ?”

কানাই বলল, ” এদের জন্য সুন্দর সুন্দর পোষাক নিয়ে আনো।”

দৈত্য এক নিমেষেই সুন্দর সুন্দর পোষাক নিয়ে আনলো। কানাই তার বউকে সবকিছু খুলে বলল।
এখন কানাইয়ের বড় বিপদ। আর সে কি কাজ দেবে! সব কাজই তো শেষ। কানাইয়ের বউ তখন পরামর্শ দিল সেই সাধুবাবার কাছে যেতে।

কানাই দৈত্যকে সাধুবাবার কাছে নিয়ে যেতে বলল। দৈত্য সেখানে নিয়ে গেল। সাধুবাবা প্রথমে কানাইকে চিনতে পারলো না। কানাই সব কিছু খুলে বলল৷ সাধুবাবা বলল,” কুকুরের লেজ সোজা করার কাজ দাও।”

কানাই বলল, ” এতে কি হবে?”

সাধুবাবা বলল, ” আগে দিয়েই দেখো না কি হয়!”

কানাই তারপরে দৈত্যকে বলল,” এই কুকুরটার লেজ সোজা করে আনো।”

দৈত্য কুকুরটার লেজ সোজা করতে গেল। কিন্তু যতবার সোজা করে, আবার বাঁকা হয়ে যায়। তখন সে কানাইয়ের কাছে মাফ চাইলো। কানাই বলল, ” এখন যেখান থেকে এসেছিলে, আবার সেখানেই ফিরে যাও।”

দৈত্য চলে গেল। আর কানাই সেই রাজ্যের রাজা হয়ে রাজ্য চালাতে লাগলো। দেখলেন তো, দৈত্যের সাথে চালাকি কিভাবে করতে হয়…?

ভালো লাগলে একটা কমেন্ট করে যান…

Leave a Reply

Your email address will not be published.