জন্ম নিবন্ধন আবেদন, সংশোধন, ফি ২০২২ বিস্তারিত

বাংলাদেশ

জন্ম নিবন্ধন আবেদন, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন ফি বিস্তারিত

জন্ম নিবন্ধন হলো নিজের পরিচয় বহনকারী আইডি কার্ড। সহজ ভাষায় মানুষের জীবনের প্রথম পরিচয় পত্র হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ তার নাগরিকদের পরিচয় নথিভুক্ত করে থাকে। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ ২০০৪ সাল থেকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন প্রদান করে। আর তখন থেকেই আমাদের দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

কিন্তু তা শর্তেও, একটি সার্ভে থেকে জানা গেছে যে, বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক জনগণের মাঝে, এখনও প্রায় ১ কোটি মানুষের জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি। এছাড়াও আরো অনেকেই জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করেনি। এর মধ্যে আপনি বা আপনার শিশু নেই তো?

আজকের পর্বে আমরা জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু জানব। নিচের টেবিলে/ছকে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। আপনার যেটি জানা প্রয়োজন, সেটিতে ক্লিক করলেই সবকিছু জানতে পারবেন। আর যদি জন্ম নিবন্ধন নিয়ে কিছুই না জেনে থাকেন, তাহলে আমাদের পুরো লিখাটি পড়ুন।

( ছক পরবর্তীতে দেওয়া হবে)

 

জন্ম নিবন্ধন কী?


জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে একজন মানুষের মৌলিক তথ্যসমূহ সরকারি খাতায় লিপিবদ্ধ করে, তাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে নাগরিকের স্বীকৃতি প্রদান করা। জন্ম নিবন্ধন আইনে বলা আছে, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি মানুষের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক। জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়ার পর, সেই ব্যাক্তিকে দেশের সরকার সকল নাগরিক সুবিধা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে।


জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন করার জন্য ব্যাক্তির নাম, জন্ম তারিখ, জন্ম স্থান, স্থায়ী ঠিকানা, লিঙ্গ, পিতা-মাতার নাম এবং জাতীয়তা জন্ম নিবন্ধককারীকে প্রদান করতে হয়। এরপর জন্ম নিবন্ধককারী কর্তৃক প্রদত্ত সকল তথ্য সরকারি ডাটাবেজ এ আপলোড করা হয়। তারপর উক্ত ব্যক্তিকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

 

জন্ম নিবন্ধন সনদ কি কি কাজে লাগে? জন্ম নিবন্ধন এর প্রয়োজনীয়তা কী?


জন্ম নিবন্ধন আমাদের জীবনের প্রথম পরিচয়পত্র। এছাড়াও জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে একটি দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরুপ দলিল। যদিও আমরা অনেকে এনআইডি কার্ডকে নাগরিকতার প্রমাণ হিসেবে ধরে থাকি। কিন্তু এনআইডি কার্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনই হচ্ছে নাগরিকত্ব প্রমাণের দলিল। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক যেকোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে চাইলে, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা বাধ্যতামূলক। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আমাদের কি কি কাজে লাগে, তা নিচে সংক্ষেপে বলা হলো –

  • শিশুদের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। যদিও কিছু স্কুলে এখনও টিকা কার্ড দিয়ে ভর্তি করানো হয়, তবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন।
  • ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলে, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দরকার হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের জন্ম নিবন্ধন বা আইডি কার্ড প্রয়োজন হয়।
  • বিদেশে যেতে বা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে, পাসপোর্ট তৈরিতে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হয়। জন্ম সনদ ছাড়া পাসপোর্ট করা অসম্ভব।
  • দেশের পূর্নবয়স্কগণ বিবাহ করতে চাইলে জন্ম নিবন্ধন লাগবে। কারণ জন্ম নিবন্ধন ছাড়া বয়স নিরুপন সম্ভব না।
  • যেকোনো সরকারী বা বেসরকারী চাকুরিতে আবেদন বা যোগদান করতে হলে, জন্ম নিবন্ধন আবশ্যক। কেননা, কোনো রোহিংগাকে দেশে চাকরি প্রদান করা অবৈধ।
  • আপনি যদি নিজের গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন অথবা গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চান, তাহলে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা লাগবে।
  • ক্রয়কৃত জমি-জমা নিজের নামে রেজিষ্ট্রেশন করতে চাইলে, জন্ম নিবন্ধন লাগবে।
  • বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকে নিজের নামে একাউন্ট খুলতে চাইলে, জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে।
  • আপনি যদি বিদেশে যেকোনো পণ্য আমদানি বা রপ্তানির লাইসেন্স নিতে চান, তাহলে নিবন্ধন সনদ লাগবে।
  • বাসা-বাড়ি বা দোকানে অথবা কারখানায় গ্যাস – পানি – বিদ্যুৎ – টেলিফোন সংযোগ নিতে হলে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন লাগবে।
  • TIN Certificate (টিআইএন) পেতে চাইলে পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
  • যেকোনো ব্যবসায় করতে হলে, লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য Birth Certificate বা NID লাগবে।

 

অর্থাৎ জন্ম নিবন্ধন বা Birth Certificate ছাড়া কোনো জায়গাতেই আমাদের মুল্য নেই। তাই দেশের সকল সুবিধা ভোগ করতে চাইলে জন্ম নিবন্ধন করা অবশ্যই প্রয়োজন। আসুন, সহজেই কীভাবে জন্ম নিবন্ধন করা যায় এবং কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে হবে তা সম্পর্কে বিশেষ পর্বে যাওয়া যাক।

 

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে কী কী লাগবে? নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরির উপায় কী?


নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন –


আমাদের বাবা-মায়েরা আগে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় গিয়ে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করত। কিন্তু এখন জন্ম নিবন্ধন এর আবেদন অনলাইনে করতে হয়। সেক্ষেত্রে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম আপনি নিজেই ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে পূরণ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনার কাছে যদি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ঝামেলা মনে হয়, তাহলে যেকোনো কম্পিউটার দোকান থেকে সহজেই জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আসুন, জানা যাক নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য কি কি লাগবে?

 

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে যা যা প্রয়োজন –


জন্ম নিবন্ধন আবেদন একদম সহজ। এক্ষেত্রে ৩ শ্রেণীতে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা হয়ে থাকে।

যথা – (১) শিশুর বয়স ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে হলে, (২) শিশুর বয়স ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের নিচে হলে, (৩) শিশু বা ব্যাক্তির বয়স ৫ বছরের বেশি হলে। আসুন পর্যায়ক্রমে বিস্তারিত জানা যাক।

 

(১) শিশুর বয়স ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে হলে, যা যা লাগবে –

 

  • শিশুর টিকা কার্ড (EPI) ।
  • শিশুর মা ও বাবার উভয়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ ।
  • মা ও বাবার NID Card এর কপি ।
  • নিজ বাড়ি হলে, বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ বা বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি। ভাড়া বাসায় থাকলে বাড়িওয়ালা কর্তৃক চুক্তিনামা। (অনেক সময় এসবের প্রয়োজন হয়না)
  • যোগাযোগের জন্য যেকোনো একজন অভিভাবকের মোবাইল নম্বর।

 

(২) শিশুর বয়স ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের নিচে হলে, যা যা লাগবে –

 

  • সাধারনত উপরে প্রদত্ত কাগজপত্রসহ, আরও কয়েকটি কাগজ লাগবে ।
  • শিশুর যে হাসপাতালে জন্ম হয়েছে, তার ছাড়পত্রের কপি ।
  • যদি শিশু হাসপাতালে জন্ম গ্রহন না করে, তাহলে জন্ম তথ্য সংগ্রহকারী যেকোনো NGO বা পরিবার পরিকল্পনা কর্মীর প্রদান করা সিল-স্বাক্ষরসহ প্রত্যয়নপত্র ।
  • অথবা শিশুর সঠিক বয়স প্রমাণ করার জন্য হাসপাতালের ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ প্রত্যায়নপত্র ।

 

(৩) শিশুর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে, জন্ম নিবন্ধন করতে যা প্রয়োজন –


• এক্ষেত্রে যেহেতু শিশুর বয়স বেড়ে গিয়েছে, তাই বয়স প্রমাণের জন্য চিকিৎসক হতে প্রাপ্ত বয়স প্রমাণের প্রত্যয়নপত্র অবশ্যই লাগবে ।
• শিশু যদি স্কুলে পড়াশুনা করে, তাহলে নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে স্কুল কর্তৃক শিশুর রেজাল্ট কার্ড বা সার্টিফিকেট লাগবে । (অনেক স্কুলে টিকা কার্ড দিয়ে ভর্তি করানো হয়)
• মা – বাবার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কপি
• মা – বাবার ন্যশনাল আইডি কার্ডের কপি
• কিছু ক্ষেত্রে শিশুর জন্মস্থান প্রমাণের জন্য মা / বাবা / দাদা / দাদীর নিজ নামে জমি বা বাড়ির দলিল এবং খাজনা – কর পরিশোধের রশিদের প্রমানপত্র লাগতে পারে ।

 

জন্ম নিবন্ধন কোথায় করা হয়?


আমরা সবাই জানি যে, জন্ম নিবন্ধন কোথায় করা হয় । তবুও অনেকে আছেন, যারা এ ব্যাপারে জানেন না । বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৬ সালে বাস্তবায়ন হয় । তারপর সবাই ২০১০ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে পেরেছে । কিন্তু এখন জন্ম নিবন্ধন করতে কিছুটা খরচের দরকার হয়। জন্ম নিবন্ধন করতে কত খরচ হয়? জন্ম নিবন্ধন ফি কত ? তা আমরা লিখার শেষে বলছি…


বাংলাদেশে ২ ভাবে জন্ম নিবন্ধন করা যায় । (১) জন্ম নিবন্ধনকারী অফিসে গিয়ে বা অফলাইনে, (২) অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন । জন্ম নিবন্ধনকারী অফিসে গেলে জন্ম নিবন্ধন করে নেওয়া যাবে। আর অনলাইন থেকে করতে চাইলেও, শেষে আপনাকে জন্ম নিবন্ধনকারী অফিসে যেতে হবে । আসুন, বিস্তারিত জানা যাক ।

 

জন্ম নিবন্ধন অফিসে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন করার পদ্ধতি –


যেহেতু আমাদের দেশের সবাই এখনও ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি, তাই এখনও জন্ম নিবন্ধন আবেদন অফলাইনে চালু আছে । আপনি চাইলেই সহজে অফলাইন জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। সেজন্য আপনাকে শিশুর জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার যেকোনো নিবন্ধকের কাছে জন্ম নিবন্ধন করতে যেতে হবে ।

 

জন্ম নিবন্ধনের জন্য জন্ম নিবন্ধক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন বা অনুমোদন দিতে পারেন –

 

  • বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত যেকোনো কর্মকর্তা ,
  • আপনার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ,
  • পৌরসভার মেয়র / তার দ্বারা ক্ষমতা প্রাপ্ত যেকোনো সদস্য বা কর্মকর্তা ,
  • সিটি কর্পোরেশনের মেয়র / তার দ্বারা ক্ষমতা প্রাপ্ত যেকোনো সদস্য বা কাউন্সিলর ,
  • প্রেসিডেন্ট অব ক্যান্টনমেন্ট / তার দ্বারা ক্ষমতা প্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা ,
  • যদি আপনি বিদেশে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত থেকে জন্ম নিবন্ধন এর অনুমোদন নেওয়া যাবে ।

 

জন্ম নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করে জমা দেওয়ার নিয়ম-


অফলাইনে বা সরাসরি গিয়ে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে, আপনাকে একটি জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম নিতে হবে। সাধারণত ফরমটি জন্ম নিবন্ধক কার্যালয়ে গেলেই পেয়ে যাবেন । আর আপনি যদি এখনই ফরমটি হাতে পেতে চান, তাহলে অনলাইন থেকে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন । জন্ম নিবন্ধন ফরমের পিডিএফ কপি ডাউনলোড কপি পেতে, এখানে ক্লিক করুন

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমটি পূরণ করা একদমই সহজ। ফরমটি কম্পিউটার ও হাতে দু’ভাবেই পূরণ করা যাবে। তবুও যদি কেউ পূরণ করতে না পারেন, তাহলে আমাদের কমেন্টবক্সে বা ফেসবুক পেইজে মেসেজ দিন। আপনাদের সুবিধার্থে ফরমটি ছবি নিচে দেওয়া হলো।


জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম জমা দিন –


নির্ভুলভাবে জন্ম নিবন্ধন ফরমটি পূরণ হয়ে গেলে, এর সাথে কিছু কাগজপত্র নিয়ে এটিকে জমা দিতে হবে । জন্ম নিবন্ধন ফরম কোথায় জমা দেবেন ? ঐ যে, আগেই বলেছি, আপনার শিশুর জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের জন্ম নিবন্ধনকারী অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে ।

 

নির্দিষ্ট সময় পর জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করুন –


জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম জমা দেওয়ার সময়, জন্ম নিবন্ধনকারী অফিস থেকে আপনাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহন করার একটি তারিখ বলে দিবে। অথবা, আপনার মোবাইল নাম্বারে কল করে জানাবে । তখন সেখানে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে আনুন। আর, সনদে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের স্বাক্ষর অবশ্যই লাগবে ।
কীভাবে জন্ম নিবন্ধন অফলাইনে বা সরাসরি আবেদন করবেন, তা আমরা এতক্ষন জানলাম। এবার জানা যাক, ঘরে বসেই কীভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করবেন? অর্থাৎ, এবারের লিখাটা খুবই ইন্টারেষ্টিং হবে । আসুন শুরু করা যাক, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে…


জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম –


আমরা আগেই জেনেছি, বাংলাদেশে ২০১০ সাল পর্যন্ত সবাই ফ্রি তে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পেরেছে। কিন্তু তারপর থেকেই সামান্য ফি দরকার হয় এবং জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় । আর, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন খুবই সহজ । অনেকটা আমাদের ওয়েবসাইটের ফরম পূরনের মত। আমি মজা করছি না , সত্যিই বলছি… আসুন ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানা যাক ।


(১) প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের জন্য সবার আগে আপনাকে নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করতে হবে । সেজন্য ভালো কোনো ব্রাউজার নির্বাচন করতে হবে । তা না হলে, সার্ভার সমস্যার মুখোমুখিতে পড়তে পারেন। আর, জন্ম নিবন্ধন বা সরকারি যেকোনো সার্ভার এমনিতেই ডাউন থাকে। তাই রাত ১২টার দিকে চেষ্টা করতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের লিংক – https://bdris.gov.bd


(২) জন্ম নিবন্ধন আবেদন লিংকে ঢোকার পরে, আপনাকে সেখানে আপনার এলাকার কার্যালয়ের নাম, শিশুর জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানাসহ বিস্তারিত সাবমিট করতে হবে ।
তারপর আপনার সামনে একটি জন্ম নিবন্ধন আবেদনের অনলাইন ফরম আসবে। জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন ফরমে আপনাকে প্রথমে বাংলায় ও পরে ইংরেজিতে ফরমটি ভালভাবে নির্ভুল্ভাবে পূরণ করতে হবে। কারণ, এটি আর সংশোধনের উপায় থাকবে না। তারপর আপনাকে সংরক্ষণ বা SAVE বাটনে ক্লিক করে তা সাবমিট করতে হবে। সাবমিট করার পরে, আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমটি জন্ম নিবন্ধক কার্যালয়ে পৌছে যাবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন সফল হয়ে গেলে, আপনাকে মেসেজ করে একটি আবেদন নাম্বার দেওয়া হবে। সেই নাম্বার দিয়ে আপনি সহজেই জন্ম নিবন্ধন প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

(৩) জন্ম নিবন্ধন প্রিন্ট করার পর, জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে প্রিন্ট কপিসহ জন্ম নিবন্ধক অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। (কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও এর সত্যায়িত কপি সাথে নিতে হয়)
অর্থাৎ, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন প্রক্রিয়া একদমই সহজ । এরপরও কোনো সমস্যা হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান । এবার আসা যাক, জন্ম নিবন্ধন ফি কত? জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে কত টাকা লাগে? এসব সম্পর্কে একটি ছক টেবিল নিয়ে । তারপর আমরা জানতে পারব, জন্ম নিবন্ধন যাচাই, সংশোধন ও ডাউনলোড করার নিয়ম সম্পর্কে । সাথেই থাকুন।


জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে ফি কত ? জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে ফি কত?

বিষয়ফি (দেশে) ফি (বিদেশে)
জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে ফিনেইনেই
৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ফি২৫ টাকা১ ডলার
বয়স ৫ বছরের উপরে হলে ফি৫০ টাকা১ ডলার
জন্ম তারিখ সংশোধনে ফি১০০ টাকা২ ডলার
জন্ম তারিখ ব্যাতীত অন্যান্য সংশোধনে৫০ টাকা১ ডলার
সংশোধনের পর নিবন্ধন সনদ ফিনেইনেই
জন্ম নিবন্ধের নকল সরবরাহ ফি৫০ টাকা১ ডলার
জন্ম নিবন্ধন আবেদন ও সংশোধন ফি ২০২২

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই –

 

অনেক ক্ষেত্রেই জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। কারণ, আজকাল ইন্টারনেটের যুগে ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের অভাব নেই। টাকার বিনিময়ে অসাধু কম্পিউটার দোকানদাররা জন্ম নিবন্ধনে বয়স বা নাম এডিট করে দেয়। তাই অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়মটা জানা খুবই জরুরী ।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য, আপনার শুধু প্রয়োজন হবে জন্ম নিবন্ধনে লিখা ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ । এই দুটি জিনিস থাকলেই, আপনি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন । জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার উপায় ধাপে ধাপে বলা হলো ।

(১) প্রথমে এই লিংকে প্রবেশ করুন – https://everify.bdris.gov.bd/

(২) তারপর, ছবির মত করে, আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিন। তারপর, নিচের ক্যাপচাটি খালিঘরে লিখুন। তারপর SEARCH বাটনে ক্লিক করলেই, আপনার জন্ম নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য চলে আসবে।

(৩) যদি এভাবে করার পর, কোনো তথ্য না আসে, তাহলে বুঝে নিবেন যে, আপনার জন্ম নিবন্ধনটি অনলাইনে নেই । অথবা যার জন্ম নিবন্ধন চেক করছেন, তার জন্ম নিবন্ধনটি ভুয়া । আশা করি বিস্তারিত বুঝাতে পেরেছি, এরপরও কোনো সমস্যা হলে আমাদের কমেন্ট করে জানান।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করবেন কীভাবে? অনেকেই ভুল করে, জন্ম নিবন্ধনে ভুল তথ্য দিয়ে থাকে। তারপর জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার প্রয়োজন হয়। এবার আমরা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন নিয়ে বিস্তারিত জানব।



জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নিয়ম –

নতুন জন্ম নিবন্ধন করার চাইতে, এই কাজটি একটু জটিল । তবে ধাপে ধাপে বললে, আশা করি নিজেরাই করতে পারবেন । তবে আপনি সর্বোচ্চ ৪ বার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারবেন । আসুন শুরু করা যাক –

(১) প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের যেকোনো ভালো ব্রাউজার সিলেক্ট করুন । তারপর জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন ।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের লিংক – https://bdris.gov.bd/br/correction

(২) জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য লিংকে প্রবেশ করার পর, কিছু নিয়ম-কানুন লিখা দেখতে পাবেন । তার নিচেই আপনার জন্ম নিবন্ধন নং ও আপনার জন্ম তারিখ লিখে, সার্চ করতে হবে । ( নিচের ছবি দেখুন )

(৩) সার্চ করার পর, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনকারী ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেখতে পাবেন । সেখান থেকে পরিচয় ভালোমত মিলিয়ে নিন।

(৪) সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, নিচের ‘নির্বাচন’ বাটনে ক্লিক করে, কনফার্মে ক্লিক করুন ।

(৫) তারপর, আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা সিলেক্ট করুন । এরপর, ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করুন ।

(৬) তারপরই আপনারা আপনাদের জন্ম নিবন্ধনের মূল পাতা দেখতে পাবেন। এখানে আপনার জন্ম নিবন্ধনে কি কি ভুল আছে, তা ঠিক করে লিখে দিন। পাশাপাশি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কারণ সেখানে লিপিবদ্ধ বা নির্বাচন করতে হবে ।

(৭) জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে, মা-বাবার নাম ভুল থাকলে, তাদের জন্ম নিবন্ধন নং সেখানে লিপিবদ্ধ করে দিতে হবে।

(৮) যদি আপনার মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন না থাকে এবং আপনার জন্ম যদি ২০০০ সালের আগে হয়, তাহলে মা-বাবার কোনো ডকুমেন্ট দিতে হবেনা ।

(৯) আপনার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন হয়ে গেলে, তারপরের ফরমে আপনার জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা লিখে দিতে হবে ।


(১০) তারপর, আবেদনকারীর কিছু তথ্য ফরমে নির্ভুলভাবে লিখে দিতে হবে।

(১১) এরপর আপনাকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য কিছু প্রমাণ তাদেরকে আপলোড করে দিতে হবে ।

যেমন – আপনার নামে ভুল থাকলে, আপনার স্কুলের সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেন ইত্যাদি। আর প্রমাণগুলোর জন্য যে ছবি তোলা হবে, তার সর্বোচ্চ সাইজ 976kb এর নিচে হতে হবে । তারপর, আপলোড করার জন্য START বাটনে ক্লিক করে দিন ।

(১২) এরপর নিচে দেখতে পাবেন, ‘পেমেন্ট এর মাধ্যম’ লিখা আছে । সেখান থেকে ‘ফি আদায়’ বা ‘চালান এর মাধ্যমে’ ক্লিক করে টাকা জমা দিতে হবে । ‘ফি আদায়’ ক্লিক করলে, জন্ম নিবন্ধন তোলার সময় টাকা দিতে হবে। আর ‘চালান এর মাধ্যমে’ মাধ্যমে ক্লিক করলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চালানের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা লাগবে ।

(১৩) আপনার সব তথ্য ঠিক থাকলে, SUBMIT এ ক্লিক করুন । সেজন্য আরেকবার তথ্য চেক করে নিতে পারেন।

(১৪) সাবমিট বাটনে ক্লিক করার পর, আপনাকে আবেদন পত্র নং এবং জন্ম নিবন্ধন কার্যালয়ে যাওয়ার তারিখ বলে দেওয়া হবে । এরপর নিচের ‘আবেদনপত্র প্রিন্ট’ বাটনে ক্লিক করে, আপনার জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে নিন।

(১৫) আবেদনে জন্ম নিবন্ধন কার্যালয়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখের আপনাকে আবেদনপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে জন্ম নিবন্ধন কার্যালয়ে যেতে হবে । সেখানে যাওয়ার পর, তারা ২/১ দিনের মধ্যেই আপনাকে আপনার সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ বুঝিয়ে দেবে।

 

জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোডের নিয়ম –


অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড করা একদমই সহজ । নিচের কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই, আপনারা অনলাইন থেকে জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবেন।


জন্ম নিবন্ধন ওয়েবসাইটে ঢুকে প্রথমে জন্ম নিবন্ধনটি যাচাই করতে হবে। তারপর,
(১) মোবাইল বা কম্পিউটারের মেনুতে ক্লিক করে, প্রিন্ট এ ক্লিক করতে হবে।

(২) তারপর Destination এর পাশের Save as PDF এ ক্লিক করতে হবে।
(৩) তারপরই আপনি আপনার ফাইলে জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড করা পিডিএফ কপিটি দেখতে পাবেন।
দেখলেন তো, জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড কত সহজ !

 

জন্ম নিবন্ধন নিয়ে কিছু প্রশ্ন – উত্তর (FAQ)


প্রশ্নঃ কোনো শিশুর বিদেশে জন্ম হলে, তার জন্য কি দেশে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে ?
উত্তর – হ্যা, যাবে । সেই শিশু সম্পর্কে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে ।

প্রশ্ন: আমি কি একাধিকবার (২বার) জন্ম নিবন্ধন করতে পারব ? আর করলে কী হবে ?
উত্তর – না, যাবে না । জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ মোতাবেক এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং ধরা খেলে সাজা হতে পারে । তাই যদি ২ বার বা এর বেশি করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আপনার ১ টি জন্ম নিবন্ধন রেখে, অন্যটি দ্রুত বাতিল করুন ।

প্রশ্নঃ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে গিয়ে ‘সেভ’ না হলে, কী করতে হবে?
উত্তর – জন্ম নিবন্ধন আবেদন ওয়েবসাইট্‌ একটানা ১৫ মিনিট এর বেশি অফলাইনে বা আপনি কোনো কাজ না করলে, সেখান থেকে আপনি অটোমেটিক Log Out হয়ে যাবেন । অর্থাৎ, আপনাকে আবার লগইন করে, সব তথ্য আবার পূরণ করতে হবে ।

প্রশ্নঃ নারীদের জন্ম নিবন্ধনে স্বামীর নাম লেখা যাবে নাকি ?
উত্তর – না । কারণ, জন্ম নিবন্ধনে জন্মকালীন তথ্য থাকে । এখানে বিবাহকালীন কোনো তথ্যই আসবে না ।

প্রশ্নঃ বাংলা ও ইংরেজী জন্ম নিবন্ধন সনদ একসাথে নেওয়া যাবে ?
উত্তর – হ্যা, যাবে ।

প্রশ্নঃ জন্ম নিবন্ধন করার সময় যদি মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন না থাকে, তাহলে কি জন্ম নিবন্ধন করা যাবে?


উত্তর – ২০০১ সালের পর যেসব যাদের জন্ম হয়েছে, তাদের অবশ্যই মা -বাবার জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে, নইলে করা যাবেনা । আর যাদের জন্ম ২০০১ সালের আগে, তাদের জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে হলে, মা – বাবার জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন নেই ।

প্রশ্নঃ জন্ম নিবন্ধন ১৭ ডিজিট করার উপায় কি ?
উত্তর – যদি জন্ম নিবন্ধন ১৭ ডিজিটের কম হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধকের কার্যালয়ে গিয়ে, পুরাতন জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিন। তারপর তারা আপনাকে নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করবে ।

বিস্তারিত প্রশ্ন – উত্তর জানতে, আমাদেরকে কমেন্ট করুন । আজ আমরা নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন যাচাই, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড, জন্ম নিবন্ধনের ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম । এরপর অন্য একটি শিক্ষনীয় বিষয় নিয়ে লিখব ইনশাআল্লাহ । কোন বিষয় নিয়ে লিখলে ভাল হবে, কমেন্ট করুন।
আজকের পর্বটি কেমন হয়েছে? কষ্ট করে লিখার পরিবর্তে একটি কমেন্ট কি পেতে পারিনা …?

 

লেখক – এম. এ. নাবিল ।

(ফাউন্ডার – সম্প্রতি)

Leave a Reply

Your email address will not be published.