অচেনা ভাইয়া…

ছোট গল্প

কোনো এক গ্রীষ্মের কাঠ ফাঁটা রোদের দিন।মাঠ ঘাট সব খাঁ খাঁ করছে,শহরের ব্যস্ত জীবন,থেমে নেই। বাসে জনগনের ভিড়,দাড়াবার জো নেই তবু ও হ্যাংলা আরমান ঠিক একটা সিটে বসে পড়েছে।অপেক্ষা বাস থামার কিন্তু গন্তব্য জানা নেই।উদাস মনে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে………….! চলতে চলতে এক সময় বাসটা ও থেমে গেল,কন্ট্রাকটার নামেন, নামেন বলে চিৎকার করছিল। আরমান ও নেমে গেল।সহজ , সরল,সাদামাটা এই ছেলেটা।গায়ে খুবই সাধারণ পোষাক। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে।পাশেই দেখল লেবুর শরবত ওয়ালা মামাকে। শরবত খাওয়ার জন্য সে এগুচ্ছে
হঠাৎ একটা মেয়ে ওর পিঠে হাত দিল,আরমান ঘুরে তাকাতেই মেয়েটি বলল-ভাইয়া!!!!! মেয়েটি অবাক হয়ে বলল-“ভাই! কেমন আছিস তুই?তুই জানিস তোকে আমি কত্ত মিস করেছি:-(“
এত মায়া,আবেগ,ভালোবাসা আরমান আগে কখন ও দেখে নি,সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ করে মেয়েটা তাকে ভাই বলে ডাকায় সে চমকে গেল, বলতে চাইছিল -“কে আপনি?”.
কিন্তু মেয়েটার এত উল্লাস-আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল যে অনেকদিন পর সে তার হারিয়ে যাওয়া ভাইটিকে খুঁজে পেয়েছে। এই হাসি মাখা মুখটা আরমান নষ্ট করে দিতে ও পারছেনা। কিন্তু মেয়েটা তার মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারছে যে তার ভাই তাকে চিনতেই পারেনি। এক মুহূর্তের মধ্যে মেয়েটার সুপ্ত হাসি মিলিয়ে গিয়ে মুখটা হয়ে গেল মেঘের কালো ছায়া.!
চোখটা তার সঙ্গে সঙ্গে ভিজে গেল,নিজের অজান্তেই টুপ করে দু’ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল তার গাল বেয়ে। মেয়েটি বলল-“চিনতে পারিস নি আমায়? এত সহজে তোর বনুকে ভুলে গেলি?”
কিছুক্ষণ এভাবেই নিস্তব্দে কেটে গেল।তারপর
মেয়েটা চলে গেল,আরমান অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।তার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল মেয়েটাকে আটকাতে কিন্তু সে দাড়িয়েই রই

Leave a Reply

Your email address will not be published.