কক্সবাজারে তৈরি হচ্ছে সুড়ঙ্গ সড়ক

কক্সবাজারে তৈরি হচ্ছে সুড়ঙ্গ সড়ক এবার সুড়ঙ্গ সড়কে পাল্টে যাবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সড়কটি কলাতলী থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত দীর্ঘ হবে। এসব এলাকায় প্রচুর ভাঙন দেখা যায়। তাই ১২ ফুট উচ্চতায় ১২ কি.মি সাগরের তীর ঘেষে সুড়ঙ্গের মত বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

সড়কটি নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। জানা যায় যে, এই সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকবে হাঁটার আলাদা রাস্তা, প্রদর্শনী মঞ্চ, বিনোদন পার্ক, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, বিভিন্ন হাই-ফাই দোকান, কাচের জানালা নিয়ে সমুদ্র দেখাসহ বিনোদনের আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এছাড়াও থাকবে সমুদ্রের নিচের প্রাণিজগতকে ভাল করে দেখার অ্যাকুয়ারিয়াম, প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে স্থাপিত হবে নানারকম ভাস্কর্য। আসলে বলে শেষ করা যাবেনা…

দিনের চেয়ে রাতের বেলায় সড়কটি পর্যটকদের ভীষণভাবে বিমোহিত করবে। সড়কের কাজ শেষে বালিয়াড়ির সর্বপ্রকার স্থাপনা বা দোকানপাট চলে যাবে বাঁধের অভ্যন্তরে।

যা যা থাকছে সুড়ঙ্গ সড়কটিতে (সংক্ষেপে) –

মাল্টিফাংশনালভাবে সড়কটি তৈরি হবে। মোট সড়কের আয়তন হবে প্রায় ১২ কি.মি। সাইকেল বে থাকবে ৫ কি.মি জায়গাজুড়ে। ওয়ার্কিং বে ৪.৮০ কি.মি জুড়ে থাকবে। ফুটওভার ব্রিজ থাকবে ৮টি। এছাড়াও ৭০০ এর মত বসার জায়গা, ১টি ল্যান্ডস্কেপ, ১টি প্রদর্শনী মঞ্চ, পর্যটকদের জন্য ১০টি তথ্যকেন্দ্র, শিশুপার্ক ১টি , বাসষ্টান্ড বা বাস পার্কিংয়ের জায়গা ১টি, ETP সমৃদ্ধ পানির ব্যবস্থা ১টি, সমুদ্রতলের প্রাণিজগৎ দেখার একুরিয়াম ১টি, প্রায় ১০টি ভাস্কর্যসহ আরো অনেককিছু।

অবশেষে বলা যায় যে, অনেকদিন ধরে যারা সাগরপাড়ে দোকানপাট, আবর্জনা আর অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশ, ঠিক তাদের জন্যই এই সুড়ঙ্গ সড়কটি হতে পারে খুশির জোয়াড়। এখনকার কক্সবাজারের সাথে ভবিষ্যতের কক্সবাজার এ অনেক তফাত দেখা দেবে। সড়কটি তৈরি হলে কক্সবাজারে দেশী-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণও অনেকটা বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতও উন্নত হবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৪ বছরের মত। এই মাসে অনুমোদন পেলে, আগামী মাস (এপ্রিল) থেকে এটি নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে। এবং জানা যায় যে, ২০২৪ সালের জুন মাসে সড়ক-বাঁধের কাজ শেষ হবে।

Leave a Comment

somproti.com

FREE
VIEW