কম্পিউটার স্লো হলে করণীয়

কম্পিউটার স্লো বা হ্যাং করছে ,গতি বাড়বে যেভাবে –

প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে আমাদের প্রায় সবারই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আছে। স্কুল-কলেজের পড়াশোনা থেকে শুরু করে, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইউটিউবিং, গেমিং, বিনোদন, ফ্রিল্যান্সিংসহ ব্যবসায়ের কাজেও আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। কি নেই, যেখানে কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়না…!

কিন্তু এই অতি প্রয়োজনীয় জিনিসটি যদি স্লো (Computer Slow) করে তাহলে খুবই বিরক্তি লাগে।

আজ আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর গতি কীভাবে বাড়ানো যেতে পারে? (How to fast your Computer or Laptop performance?)

মূলত কম্পিউটারের গতি এর কনফিগারেশনের উপর নির্ভর করে থাকে। কম্পিউটারের কনফিগারেশন বলতে এর অভ্যন্তরীন গঠনকে বোঝায়। এক্ষেত্রে উন্নত প্রসেসর, প্রয়োজনীয় র‍্যাম ও হার্ডডিস্ক থাকলে আমরা সেটাকে উন্নত কনফিগারেশনের কম্পিউটার বলি। তবে আমরা প্রায় সকলেই সাধারণ বা লো কনফিগারেশনের কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। যার ফলে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে করতে হয়।

আবার অন্যদিকে ভাইরাসের কারনেও কম্পিউটার স্লো করতে পারে।

আসুন, প্রথমে কম্পিউটারের স্লো (Computer Hang or Slow) হওয়ার সাধারণ কিছু কারন জেনে নিই –

(১) কম্পিউটারের র‍্যামের তুলনায় সফটওয়্যার বেশি থাকলে,

(২) টেম্পোরারি ফাইল বা অটো জেনারেট ফাইল নিয়মিত পরিস্কার না করলে,

(৩) কম্পিউটারের ফাইলের মধ্যে ভাইরাস থাকলে,

(৪) একই ধরনের একাধিক সফটওয়্যার থাকলে, যেমন: একাধিক ব্রাউজার, একাধিক এন্টিভাইরাস ইত্যাদি,

(৫) হার্ডড্রাইভ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে (Harddisk Damage),

(৬)’সি’ ড্রাইভে (C Drive) পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকলে,

(৭) কম্পিউটারের ড্রাইভ ইনস্টলে অনিয়ম হলে,

(৮) একইসাথে একাধিক কাজ করলে,

(৯)  কম্পিউটার পুরাতন হলে ইত্যাদি।

উপরে সাধারণ কিছু জিনিস শেয়ার করা হয়েছে, যার জন্য আমাদের কম্পিউটার স্লো বা হ্যাং করে। এবার আসা যাক কীভাবে আপনার কম্পিউটারটি আবার নতুনের মত করে সুপার ফাস্ট স্পিডে (Speed your Computer) চালাবেন –

১. প্রথমে সমস্যা খুঁজুন (Find Computer Problem) –

সবার প্রথমে আপনার কম্পিউটারের সমস্যা খুঁজে বের করুন। তারপর পদক্ষেপ নিন।

২. র‍্যাম সমস্যা সমাধান (Fix Ram Problem) –

কম্পিউটারের র‍্যাম কম হওয়া কম্পিউটার স্লো বা হ্যাং করার প্রধান কারন। যদি আপনার কম্পিউটারের র‍্যাম কম হয়, তাহলে কম্পিউটার থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইন্সটল করে দিন। শুধুমাত্র যে সফটওয়্যার বা এপ সবসময় ব্যবহার করেন, সেটাই রাখুন।

এছাড়াও কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো ব্যবহার করতে অধিক র‍্যাম প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সেসব ভারী সফটওয়্যার বাদ দিয়ে তার অল্টারনেটিভ / বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। যেমন : ফটোশপের পরিবর্তে পোর্টেবল ফটোশপ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড/এক্সেল এপস এর পরিবর্তে যেকোনো ব্রাউজারে গিয়ে গুগল ডক্স (Google Docs) ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর যদি বাজেট থাকে, থাকলে যেকোনো ভালো কোম্পানির র‍্যাম লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে স্পিড অনেকটা বাড়বে। তবে কম্পিউটারে বাড়তি র‍্যাম লাগাবার জন্য আলাদা র‍্যাম স্লট থাকতে হয়।

৩. একই ধরনের একাধিক সফটওয়্যার পরিহার (Delete Same Software) –

আমাদের অনেকের কম্পিউটারেই একই কাজ করার জন্য একাধিক সফটওয়্যার থাকে, যা কম্পিউটার ধীরগতি হওয়ার একটি অন্যতম কারন। যেমন : ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রে ক্রোম+মজিলা+অপেরা+এক্সপ্লোরার একত্রে ব্যবহার না করে যেকোনো একটি ব্যবহার করুন, ছবির জন্য একাধিক এডিটর সফটওয়্যার ব্যবহার না করে যেকোনো একটি ব্যবহার করুন ইত্যাদি।

৪. এন্টিভাইরাস ব্যবহার (Using Antivirus) –

কম্পিউটার ধীরগতি করার জন্য এন্টিভাইরাসও বিশেষভাবে দায়ী। কি অবাক হলেন! বিশ্বাস না হলে এখনই টাস্ক ম্যানেজার (Ctrl + Shift + Delete) এ গিয়ে দেখে আসতে পারেন। কিন্তু এন্টিভাইরাস তো আর কম্পিউটার থেকে বাদ দেওয়া যায়না। কম্পিউটার থেকে এন্টিভাইরাস বাদ দিলে, যেকোনো সময় কম্পিউটারটি ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। আর ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটারও অনেক ধীর গতির হয়ে পড়ে। তাই একাধিক এন্টিভাইরাস কখনও ব্যবহার করবেন না। তাই যেকোনো একটি হালকা ও ভালোমানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। তবে যারা Windows 10 কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তারা Windows Defender চালু রাখতে পারেন।   

৫. ফাইল ম্যানেজার বা মেমরি (Hard Disk / File Manager) –

অধিকাংশ কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের জন্য হার্ডডিক্স (HDD) ব্যবহৃত হয়, যা SSD এর তুলনায় খুবই ধীর গতিতে কাজ করে। তাই কম্পিউটার দ্রুত করতে হার্ডডিস্কে যেনো অপ্রয়োজনীয় ফাইল না থাকে, সে ব্যাপারে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে অনেক পুরানো কোনো মুভি/ছবি বা বড় কোনো ফাইল সংরক্ষনের জন্য আলাদা পোর্টেবল ডিস্ক বা মডেম ব্যবহার করুন। এতে কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের উপর থেকে চাপ কমবে এবং তা দীর্ঘদিন ভাল থাকবে।

৬. কম্পিউটার রিফ্রেশ ( Refresh Computer) –

আমরা অনেকেই Computer Slow করলে শুধু Refresh মারতে থাকি, যেখানে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই।কারন কম্পিউটারে Refresh মারলে শুধু কম্পিউটারের স্ক্রীনটাই রিফ্রেশ হয়, আসল কাজ কোনোকিছুই হয়না। তবে মডেম বা অন্য কোনো ডিভাইস কম্পিউটারে কানেক্টেড করার পর, মিসিং ফাইল খুঁজার জন্য অনেকসময় রিফ্রেশ মারতে হয়।

৭. টেম্পোরারি বা অটো-জেনারেট ফাইল (Temporary/Auto-Generated File) –

দীর্ঘদিন কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার স্লো হতে পারে টেম্পোরারি ফাইল বা অটো-জেনারেট ফাইলের কারণে।

বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা প্রতিদিনই নানা ধরনের ওয়েবসাইট ভিজিট করি । যার ফলে অটোমেটিক কিছু ফাইল তৈরি হয়ে কম্পিউটারের মেমরিতে সেভ হয়ে যায়, যাকে টেম্পোরারি ফাইল বা অটো-জেনারেট ফাইল বলা হয়।

তাই নিয়মিত এসব ফাইল পরিস্কার করতে হবে, তা না হলে কম্পিউটার ধীরগতির হতে থাকবে।

Temporary File পরিস্কারের নিয়ম –

উইন্ডোজের পাশের সার্চ বারে Run লিখে Enter চাপুন অথবা Windows + R একসাথে চাপুন। তারপর আরেকটি সার্চ বার এলে সেখানে Temp লিখে Enter চাপুন। এরপর আপনি Temporary File গুলো দেখতে পাবেন। সবগুলো Ctrl + A চেপে একসাথে সিলেক্ট করে Delete করে দিন। যদি কোনো ফাইল Delete এ সমস্যা হয়, তাহলে Skip করুন।

একইভাবে আবার Run এ গিয়ে %Temp% ও Prefetch লিখে উপরের মত করে পরিস্কার করুন। দেখবেন কম্পিউটার আগের চাইতে দ্রুত কাজ করবে।

৭. হার্ডডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট (Hard Disk Defragment)-

কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক হচ্ছে ডাটা সংরক্ষন ও পরিবহনের প্রধান হার্ডওয়্যার। এটিকে নিয়মিত অপটিমাইজ ও এনালাইজ (HDD Optimize & Analyze) করতে হয়, তা না হলে আপনার হার্ডডিস্ক/কম্পিউটারের গতি কমে যাবে। এমনকি অনেকসময় হার্ডডিস্ক ড্যামেজও হয়ে যেতে পারে। আর হার্ডডিস্ক এনালাইসিস ও অপটিমাইজড করাকেই HardDisk Defragment বলে। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একবার এটি করা ভালো।

Hard Disk Defragment যেভাবে করবেন –

কম্পিউটারের Search বারে Disk Defragment লিখে Enter চাপুন। তারপর যাথাক্রমে প্রতিটি ড্রাইভের জন্য Optimized চাপুন। কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন, HardDisk Defragment হয়ে যাবে। আর HardDisk Defragment কম্পিউটারের গতি অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে এখনই একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

৮. ইন্টারনেট ব্রাউজার (Internet Browser) –

কম্পিউটারের ব্রাউজারে ব্রাউজিং করার সময় তা একাই ৫০০ এম্বি পর্যন্ত র‍্যাম নিজের দখলে নিতে পারে। সেজন্য একাধিক ব্রাউজার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। তাই যেকোনো একটি হালকা ভালমানের ব্রাউজার ব্যবহার করুন।

আর ব্রাউজিং ডাটা হচ্ছে ব্রাউজারে জমাকৃত ডাটা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজিং করলে হিস্টোরি, কুকি, ক্যাচসহ নানা ধরনের ডাটা ব্রাউজারে জমা হয় এবং ব্রাউজার চালানোর সময় তা র‍্যামের উপর চাপ সৃষ্টি করে কম্পিউটারের গতে কমিয়ে দেয়। এজন্য নিয়মিত ব্রাউজিং ক্যাচ, কুকি ও হিস্টোরি পরিস্কার করা উচিত। ব্রাউজিং ডাটা পরিস্কার করতে হলে ব্রাউজার এ গিয়ে Shift + Ctrl + Delete চেপে সবকিছু মুছে দিন। উল্লেখ্য যে, এতে বিভিন্ন সাইট থেকে লগ আউট হয়ে যেতে পারে।

৯. প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের প্যারা (Fix Software Problem) –

কম্পিউটার চালু করার পর কিছু সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম অটোমেটিক চালু হয়ে যায়, ফলে কম্পিউটার চালুর পর হ্যাং করতে থাকে। তাই  এই সমস্যা সমাধানে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ডিজেবল করে রাখুন।

অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামসমূহ Disable করতে Search বারে ক্লিক করে Run এ যান। তারপর সেখানে msconfig লিখে Enter চাপুন। সেখান থেকে যেগুলো আপনার প্রয়োজন নেই সেগুলো Disable করে দিন।

অনেকে আবার একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, যা মোটেই ঠিক নয়। এতে হার্ডডিস্ক ও প্রসেসরের উপর প্রেসার পরে এবং কম্পিউটার গরম হয়ে যায়।

সবসময় কম্পিউটারকে ঠান্ডা রাখার চেস্টা করুন, কম্পিউটার গরম হলেই স্লো হতে থাকবে। এমনকি কোনো এক সময়ে হার্ডডিস্ক ড্যামেজ বা কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। আর কপিউটারের কুলিং ফ্যান ঠিকভাবে ঘুরছে কিনা তার দিকে নজর দিন। অনেক সময় কুলিং ফ্যান না ঘুরার কারনে কম্পিউটার তাড়াতাড়ি গরম হয়ে ওঠে।

১০. পুরানো কম্পিউটার বা লো কনফিগারেশন (Old or Low Configuration PC) –

কম্পিউটার পুরাতন হলে এর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। কারন প্রতিদিনই কম্পিউটারের সফটওয়্যার আপডেটেড হচ্ছে এবং আপডেটেড সফটওয়্যারগুলো চালাতে র‍্যাম, মেমরি ও প্রসেসর বেশি ব্যবহৃত হয়। আবার হার্ডডিস্কের নির্দিষ্ট একটা মেয়াদ থাকে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেও এটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে যারা লো কনফিগারেশনের কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে কম্পিউটার গরম হওয়ার সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। কারন সেখানে র‍্যাম ও প্রসেসর অপ্রতুল থাকে। অনেক সময় কম্পিউটার অটোমেটিক বন্ধও হয়ে যেতে দেখা যায়। র‍্যামের সমস্যার সমাধান উপরে বলেছি, আর প্রসেসর বদলানো প্রায়ই অসম্ভব। তবুও যদি কম্পিউটার সুপার ফাস্ট করতে চান,তাহলে নিচের কাজগুলো করতে পারেন।  

প্রয়োজনভেদে হার্ডডিস্কের বদলে বা এর পাশাপাশি ১২০/২৪০/৪৮০ জিবি এসএসডি (SSD) লাগিয়ে নিন, এতে আপনার কম্পিউটারের গতি আগের চাইতে ৬ গুণ গতি বৃদ্ধি পাবে। কারন, হার্ডডিস্কের চেয়ে এসএসডি এর ক্ষমতা ৬ গুন বেশি। এসএসডি নিয়ে আরেকটি পর্ব লিখলে বিষয়টি আরও ভালভাবে বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

পাশাপাশি আপনি যদি বেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান, তাহলে আপনার কম্পিউটারের র‍্যামের সাথে মিল রেখে একই বাসস্পিড এর র‍্যাম লাগিয়ে নিন। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, কম্পিউটারের সাথে মিল রেখে একই জিবির র‍্যাম লাগাবেন নাকি তার চেয়ে বেশি জিবির র‍্যাম লাগাবেন? এটা অনেক বড় একটা টপিক, যা নিয়ে পরবর্তী লিখায় আলোচনা করা হবে। আজকের লিখা আর বড় করলাম না।  

শেষকথা (Conclusion)-

উপরে উল্লিখিত পন্থাগুলো অনুসরন করলে আপনার কম্পিউটার অনেক দ্রুত কাজ করবে। আমি নিজেও আমার কম্পিউটারের স্পিডের জন্য উপরের নিয়মগুলো অনুসরন করি। এতে খুব ভাল ফল পাচ্ছি এবং আশা করি আপনাদেরও তা কাজে আসবে। 

আরেকটা কথা যেটা না বললেই নয় সেটা হলো নিয়মিত কম্পিউটারের যত্ন নিলে, কম্পিউটার আপনার দিকে নজর দিবে। আর অবহেলায় কম্পিউটার ব্যবহার করলে, আপনাকেও কম্পিউটার অবহেলা করবে। কম্পিউটার নিয়ে আরও এরকম চমকপ্রদ লিখা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

আর হ্যাঁ, আপনার কম্পিউটারে এর বাহিরেও কি কোনো সমস্যা আছে?

ভাল লেগে থাকলে বন্ধুদের শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু…

নিয়মিত পোষ্ট পেতে, আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন থাকুন।

Leave a Comment

somproti.com

FREE
VIEW