কম্পিউটার বা ল্যাপটপ হঠাৎ অন না হওয়ার কারণ

বর্তমান সভ্যতা যান্ত্রিক সভ্যতা বলে পরিচিত।মানুষ এখন নতুন নতুন অনেক কিছু আবিষ্কার করছে।ফলে জীবনযাত্রা এখন যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছে।আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার এই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ।বর্তমানে ইমেইল ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারতার কারণে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সুবিধা বেড়েছে।বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় হঠাৎ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ বন্ধ হয়ে যায়।তখন আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং দোকানে এটা ঠিক করতে নিয়ে অনেক টাকা নষ্ট করি অথবা নতুন কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয় করি। আজকে আমরা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ হঠাৎ করে অন না হওয়ার কিছু কারণ জেনে নিব __

১.কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় সবার আগে কম্পিউটারের প্লাগ ঠিকমতো দেওয়ালের সকেটে লাগানো আছে কিনা দেখে নিতে হবে।প্লাগ ঠিকভাবে লাগানো না থাকলে পাওয়ার আসবে না আর কম্পিউটার বা ল্যাপটপও অন হবে না।তাই সবার আগে পাওয়ার সাপ্লাই পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

২.কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চার্জারের সাথে সংযুক্ত করার পর ল্যাপটপ চার্জ হচ্ছে কিনা দেখতে হবে।আর প্লাগ ঠিকমতো লাগানোর পরও চার্জ না হলে বুঝতে হবে চার্জারের সমস্যা হয়েছে।নতুন চার্জার দিয়ে চেক করে দেখতে হবে ল্যাপটপ চালু হয় কিনা।অনেক সময় চার্জার ঠিক ভাবে ভোল্টেজ সাপ্লাই করতে না পারলে ও ল্যাপটপ চালু হয় না।

৩. চার্জার ল্যাপটপের সাথে সংযুক্ত করার পর চার্জার লাইন দিয়ে ল্যাপটপে চার্জ হচ্ছে কিন্তু ব্যাটারি দিয়ে চার্জ হচ্ছে না তারমানে ব্যাটারিতে সমস্যা আছে অন্য ল্যাপটপের ব্যাটারি লাগিয়ে চেক করে দেখতে হবে অথবা নতুন ব্যাটারি কিনতে হবে।

৪.ল্যাপটপের ব্যাটারি ও চার্জার ঠিক আছে,আবার পাওয়ার বাটনে কিছুক্ষণ চেপে ধরলে ল্যাপটপ চালু হচ্ছে কিন্তু ডিসপ্লে আসছে না।ল্যাপটপ চালু হওয়ার পর ডিসপ্লে না আসার মানে র‍্যাম এ সমস্যা হয়েছে।ল্যাপটপ থেকে র‍্যাম খুলে পিনগুলো রাবার দিয়ে ভালো করে মুছে ফেলতে হবে।এরপরও কাজ না হলে নতুন র‍্যাম লাগিয়ে দেখতে হবে।

৫.ল্যাপটপ বা কম্পিউটার চালু করার সময় বীপ সাউন্ড হলে মনে করতে হবে মনিটরে সমস্যা হয়েছে।তাহলে ভিজিএ বা এইচডিএমআই ক্যাবলটি চেক করে দেখতে হবে এবং নতুন মনিটর লাগিয়ে সব ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে।

৬.মনিটরের লেড লাইট যদি জ্বলেই থাকে আর মনিটরে কিছু দেখা যায় তার মানে কম্পিউটারের মাদারবোর্ড ও গ্রাফিক্স কার্ড ঠিক আছে।মনিটরের লেড লাইট না জ্বললে বুঝতে হবে মাদারবোর্ড ও গ্রাফিক্স কার্ডে সমস্যা হয়েছে‌।

৭. কম্পিউটার বা ল্যাপটপ হ্যাং করলেও অনেক সময় কম্পিউটার অন হয় না।কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ হ্যাং হওয়ার কিছু কারণ আছে –
কম্পিউটার বা ল্যাপটপের প্রসেসরের মান কাজের তুলনায় খারাপ হলে কম্পিউটার হ্যাং করে।
কম্পিউটারের র‍্যাম কম কিন্তু বড় বড় প্রোগ্রামের কাজ করলে কম্পিউটার হ্যাং করে।
কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলেও হ্যাং করে।
কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এ হাই গ্রাফিক্সের গেম খেললে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ হ্যাং করে

তাই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ বারবার হ্যাং করতে করতে বন্ধ হয়ে গেলে কুলিং ফ্যান চেক করে দেখতে হবে।ফ্যান হাই স্পিডে ঘুরতেছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৮. মাঝেমধ্যে দেখা যায় সবকিছু ঠিক আছে তারপরও ল্যাপটপ বন্ধ হয়ে রিস্টার্ট হচ্ছে।এই সমস্যা হওয়ার কারণ হচ্ছে প্রসেসর এর কুলিং ফ্যান বা হিটসিংক ও প্রসেসরের কানেকশনের দুর্বলতা।তাই কুলিং ফ্যানসহ হিটসিংক খুলে আবার টাইট করে লাগাতে হবে।কুলিং ফ্যান খোলার নিয়ম হচ্ছে কুলিং ফ্যানটিকে দুই পাশে একসাথে চেপে ধরে খোলা।

৯.কম্পিউটার বা ল্যাপটপ যদি একটু সময় নিয়ে বন্ধ হয়ে যায় তার মানে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হয়েছে।এর জন্য অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে।অজানা যেকোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যাতে কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকতে না পারে।

১০.কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পাওয়ার সুইচ অন করার পর ইন্টারনাল স্পিকার কিরকম শব্দ করে সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।কম্পিউটারের সমস্যা অনেকটা স্পিকারের শব্দের উপর নির্ভর করে।
ইন্টারনাল স্পিকারে একবার বীপ শব্দ হলে বুঝতে হবে কম্পিউটারের ডিসপ্লে আউটপুট পাচ্ছে না।কিবোর্ড যদি মাদারবোর্ডের সাথে ঠিকভাবে কানেক্ট না থাকে তখন এরকম হয়।
একটা বড় বীপ শব্দ করে দুইটি ছোট বীপ শব্দ হলে বুঝে নিতে হবে মাদারবোর্ড র‍্যাম পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে রামের স্লট পরিবর্তন করে বা অন্য কোন র‍্যাম লাগিয়ে দেখতে হবে।
একটা বড় বীপের পর তিনটি ছোট বীপের শব্দ হলে তখন একশত ভাগ নিশ্চিত ডিসপ্লে বা গ্রাফিক্স আউটপুটে সমস্যা হয়েছে।
একটা বড় বীপের পর চারটা ছোট বীপের শব্দ হবার মানে হল মাদারবোর্ড বা কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ কোন হার্ডওয়্যার নষ্ট হয়েছে বা ঠিকভাবে কাজ করছে না।

পরিশেষে, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চালু না হলে চিন্তিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় সমস্যা খুঁজে বের করতে হবে।যাতে সঠিক জায়গায় কাজ করে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ঠিক করে নেওয়া যায়।উপরের আলোচনা থেকে আমাদের কিছুটা হলেও সাহায্য হতে পারে।

Leave a Comment

somproti.com

FREE
VIEW