অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল নিয়ে বিস্তারিত

আজ অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হবে। তাই সম্পূর্ণ পড়লে, বিস্তারিত জেনে যাবেন।

এন্ড্রয়েড মোবাইল বর্তমানে সকলে ব্যবহার করছে,কিন্তু কেউ অফিসিয়াল মোবাইল ব্যবহার করে আবার কেউ আনঅফিসিয়াল মোবাইল ব্যবহার করে।আবার নতুন মোবাইল কেনার সময় আমরা বুঝতে পারি না কোনটা অফিসিয়াল আর কোনটা আনঅফিসিয়াল মোবাইল।এই অফিসিয়াল আর আনঅফিসিয়াল মোবাইল কি এটা অনেকে জানেই না।তাই আজকে আমরা অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল কি?এর সুবিধা-অসুবিধা কি?এর পার্থক্য সম্পর্কে জানব।

অফিসিয়াল মোবাইল কী?

যেসব মোবাইল বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় এবং বাংলাদেশ সরকারকে ভ্যাট এবং ট্যাক্স দিয়ে মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার বিটিআরসি এর তালিকায় জমা করানো হয়,সেসব মোবাইলকে অফিসিয়াল মোবাইল বলা হয়।

আনঅফিসিয়াল মোবাইল কী?

যেসব মোবাইল অবৈধভাবে বা সরকারকে কোন ভ্যাট বা ট্যাক্স না দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় এবং বিটিআরসি এর তালিকায় মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার জমা করানো হয় না,তাকে আনঅফিসিয়াল মোবাইল বলে।

অফিসিয়াল মোবাইলের সুবিধা ও অসুবিধা কী?

অফিসিয়াল মোবাইলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে মোবাইলে ছয় মাসের ওয়ারেন্টি বা এক থেকে দুই বছরের গ্যারান্টি দেয়া হয়।তাই মোবাইলে কোন সমস্যা হলে সার্ভিসিং এর জন্য সরাসরি মোবাইলের শোরুমে যোগাযোগ করা যায়।অফিসিয়াল মোবাইলে তেমন কোনো অসুবিধা নেই,কিন্তু দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।

আনঅফিসিয়াল মোবাইলের সুবিধা ও অসুবিধা কী?

আনঅফিসিয়াল মোবাইল এর প্রধান সুবিধা হচ্ছে দাম অনেক কম।অফিসিয়াল মোবাইলে থেকে পাঁচ হাজার বা তার থেকেও কম দামে আনঅফিসিয়াল মোবাইল কেনা যায়। কোনো কোনো মোবাইল অর্ধেক দামেও কেনা যায়।

আনঅফিসিয়াল মোবাইল এর অসুবিধা হচ্ছে ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি দেওয়া হয় না। যার কারণে মোবাইলে কোন সমস্যা হলে সার্ভিস পাওয়া যায় না।আনঅফিসিয়াল মোবাইল এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার খুব শীঘ্রই এই মোবাইল গুলো বন্ধ করে দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

তবে মজার ব্যাপার হলো, ৩১শে জুনের মধ্যে কেনা আনঅফিসিয়াল মোবাইলগুলো অটোমেটিক রেজিষ্ট্রেশন হয়ে অফিসিয়াল হয়ে যাবে।

অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল এর মধ্যে পার্থক্য কি?

অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল দেখতে একই রকম হয়,এর ফিচারও একই হয়।কোন ভাবে দেখে বুঝা যাবে না কোনটা অফিসিয়াল আর কোনটা আনঅফিসিয়াল।

অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল দামের। অফিসিয়াল মোবাইল থেকে আনঅফিসিয়াল মোবাইল পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বা অর্ধেক দামেও পাওয়া যেতে পারে।

অফিসিয়াল মোবাইলের দাম বেশি কেন?

অফিসিয়াল মোবাইল বিদেশ থেকে আনার সময় বাংলাদেশ সরকারকে কিছু ভ্যাট দিতে হয়। তাই বেশি দামে মোবাইল বিক্রি করে বিক্রেতারা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়।

আনঅফিসিয়াল মোবাইলের দাম কম কেন?

আনঅফিসিয়াল মোবাইল আনতে যেহেতু সরকারকে কোন ভ্যাট বা ট্যাক্স দিতে হয়না, তাই বিক্রেতারা কিছুটা কম দামে আনঅফিসিয়াল মোবাইল বিক্রি করে।

অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মোবাইল চিহ্নিত করার উপায় কি?

প্রতিটি মোবাইলের ১৫ ডিজিটের একটি আইএমইআই নাম্বার থাকে
যেটা মোবাইলের বাক্সে লিখা থাকে।অথবা মোবাইলের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#06# লিখে পাঠালে আইএমইআই নাম্বারটি চলে আসবে। এবার নাম্বারটি কপি করে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD > আইএমইআই নাম্বার টি লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে।মোবাইল যদি অফিসিয়াল হয় তাহলে মেসেজ আসবে মোবাইলের আইএমইআই নাম্বারটি বিটিআরসি এর তালিকায় জমা আছে। আর যদি মোবাইল আনঅফিসিয়াল হয় তাহলে মেসেজ আসবে এই ধরনের কোনো আইএমইআই নাম্বার নেই বা পাওয়া যায়নি।

আনঅফিসিয়াল মোবাইল কেনার আগে যেসব জিনিস দেখে নিতে হবে

আনঅফিসিয়াল মোবাইলে যেহেতু গ্যারান্টি দেয়া হয় না, তাই এই মোবাইল কেনার পর কতদিন ব্যবহার করা যাবে সেটা আমরা জানি না।তাই আনঅফিসিয়াল মোবাইল কেনার আগে কিছু জিনিস ভালো করে দেখে নিতে হবে।যেমন –
মোবাইলে ফুল চার্জ হয় কিনা,
2g,3g,4g নেটওয়ার্ক ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় কিনা,
ছবি ভালো তোলা যায় কি না
ফোনে কথা বলা বা শোনা যাচ্ছে কিনা
মাইক্রোফোনে কথা বললে কথা শোনা যায় কিনা।
এগুলো চেক করে মোবাইল কিনলে ঠকার সম্ভাবনা তেমন নেই বললেই চলে।

আনঅফিসিয়াল মোবাইল অফিসিয়াল করার নিয়ম –

নতুন নিয়ম অনুযায়ী আনঅফিসিয়াল মোবাইল অফিসিয়াল করতে চাইলে বিটিআরসি-এর ওয়েবসাইট থেকেই করতে পারবেন। অফিসে যোগাযোগ করে ভ্যাট দিয়ে মোবাইল অফিসিয়াল ভাবে নিবন্ধিত করতে হবে।বিদেশ থেকে মোবাইল আনার সময় বিমানবন্দরের কাউন্টারে শুল্ক পরিশোধ করে মোবাইল অফিসিয়াল করে নেওয়া যায়।

পরিশেষে,
আনঅফিসিয়াল মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর হচ্ছে ৩১জুনের আগে যারা মোবাইল কিনেছেন, তাদের মোবাইল আর বন্ধ হবে না।আপনার আনঅফিসিয়াল মোবাইলটি যে সিম দিয়ে ব্যবহার করা হবে সে সিমের রেজিস্ট্রেশনকৃত মালিকের নামেই মোবাইলটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে। এর জন্য সরকারকে আলাদা কোনো জরিমানাও দিতে হবে না।

আর ২০২১ সালের ১লা জুলাই থেকে যারা আনঅফিসিয়াল ফোন নিবেন, তাদের জন্য আমাদের পরামর্শ হবে না নেওয়া জন্য। আর যদি নিয়েই থাকেন তাহলে ক্যাশ মেমো সহ নিন।

ক্যাশ মেমোসহ আনঅফিসিয়াল ফোন কেনার সুবিধা হলো, সেটা আপনি সহজেই রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন।।

আজ এ পর্যন্তই, কোনোকিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে জানান।

Leave a Comment

somproti.com

FREE
VIEW